ইরানের একাধিক কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরীতে রাতভর তৃতীয় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর কঠিন প্রতিশোধ’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো বিবরণ জানায়নি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলা চলাকালে ইরানের বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, বান্দার-ই-দেইর এবং আসালুইয়েহ এলাকায় একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আকস্মিক এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন এই বিমান হামলার ঠিক আগমুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি করে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালি' সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে বাহিনীটি দাবি করেছে, তাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুমোদনহীন পথে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করায় একটি বিদেশি জাহাজে সতর্কতামূলক গুলিও ছুঁড়েছে তারা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘রক্তের প্রতিশোধ’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তাঁর বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকার্য সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার (১১ জুলাই, ২০২৬) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর একটি লিখিত বিবৃতি প্রচার করা হয়।
লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "প্রতিশোধ এখন গোটা ইরানি জাতির দাবি, আর এই প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে। শহীদ নেতা এবং এই চলমান যুদ্ধে নিহত সকল শহীদের রক্তের বদলা আমরা নেবো।" ইরানের এই পাল্টা আঘাত ও প্রতিশোধ নেওয়া ‘অবশ্যম্ভাবী’ বলেও তিনি মার্কিন জোটকে সতর্ক করে দেন।
সূত্র: আল জাজিরা
হরমুজে গুলি বন্ধে ইরানকে প্রকাশ্য অঙ্গীকারের চাপ যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের