হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা বাজেয়াপ্ত হওয়া ইরানি অর্থ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে কঠোর ভাষায় এর নিন্দা জানিয়েছে তেহরান।
গত জুলাইয়ের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। টানা ১৩তম রাতের আক্রমণের পর ট্রাম্প ইরানে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ বা পণ্যের যেকোনো ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানি তহবিল থেকেই মেটানো হবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে বলেন, ভবিষ্যতের কোনো দাবির দোহাই দিয়ে অন্য দেশের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা একটি অত্যন্ত উসকানিমূলক নজির।
তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, সরকারগুলো যদি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাকে স্বাভাবিক নিয়ম বানিয়ে ফেলে, তবে ভবিষ্যতে কারও সম্পদই নিরাপদ থাকবে না। আর এর ফলে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা মোটেও সুন্দর বা শান্তিপূর্ণ হবে না।
উল্লেখ্য, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্মারক চুক্তি বাতিল হওয়ার আগে এই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ আটকে রয়েছে। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মিদশার পর থেকেই প্রথম ওয়াশিংটন ইরানি সম্পত্তি ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করে।
এদিকে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর ট্রাম্প যখন ইরান ও হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক শাস্তির ঘোষণা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে একঝাঁক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।
যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত মে মাসের পর বৃহস্পতিবার এই প্রণালি দিয়ে পার হওয়া ট্যাঙ্কারের সংখ্যা কমে মাত্র একটিতে নেমে এসেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকির বার্তা দিচ্ছে।