ইসরায়েলে বড় হামলার পরিকল্পনা ইরানের

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, ইরান তার আঞ্চলিক মিত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি, হামাস এবং ইরাক ও সিরিয়ার ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একসঙ্গে অংশ নিতে পারে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান এবার এসব গোষ্ঠীর মধ্যে আরো ভালো সমন্বয় করে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালায়। তবে ওই হামলার সময় ইরান ও হিজবুল্লাহকে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা আগে জানানো হয়নি বলে মার্কিন ও ইসরায়েলি মূল্যায়নে বলা হয়েছে। ফলে সেদিন হামাসের হামলার সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ পুরোপুরি সমন্বিত ছিল না।

হিজবুল্লাহ পরে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সীমিত হামলা চালায়। এবার ৭ অক্টোবরের মতো হামলার ক্ষেত্রে সেই সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, কোনো একটি গোষ্ঠীর হামলার পর অন্যরা যুদ্ধে যোগ দেবে, এমন পরিকল্পনার বদলে ইরান এবার শুরু থেকেই একযোগে হামলার পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনায় হিজবুল্লাহ, হুতি এবং ইরাকের বিভিন্ন ইরানপন্থী মিলিশিয়া একই সময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করতে পারে। এর মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণ, দুই দিক থেকেই ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীও জানিয়েছে, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়ার কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক ও অনলাইন বৈঠক করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এসব আলোচনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা আরো বিস্তৃত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আগের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা আবারও গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ইরান।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, শুধু বৈঠক নয়, এসব গোষ্ঠীর মধ্যে সামরিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগও বেড়েছে। যৌথ প্রশিক্ষণের ঘটনাও শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সামগ্রিক সমন্বয় আগের তুলনায় বেড়েছে।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত