যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের সাথে খাপ খাইয়ে চলার বা মানিয়ে নেওয়ার চিন্তা চরম ভুল হবে উল্লেখ করে যেকোনো মূল্যে এই অবরোধ ভেঙে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন ইরান-চীন চেম্বার অব কমার্সের প্রধান মাজিদ রেজা হারিইরি।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘খবর অনলাইন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হারিইরি বলেন, আলোচনা, অনুরোধ, হুমকি কিংবা শক্তি প্রয়োগ করে আবার যুদ্ধ শুরু করার মাধ্যমে হলেও এই নৌ অবরোধের অবসান ঘটাতে হবে।
অবরোধ পাশ কাটিয়ে বিকল্প পথে বাণিজ্য চালানোর বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার যে চেষ্টা ইরান করেছিল, তা বাণিজ্য ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছিল, অর্থনীতিকে দুর্বল করেছিল এবং বড় ধরনের দুর্নীতির জন্ম দিয়েছিল। এবারও অবরোধ মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে একই পরিণতি হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, আজকের দিনে সবচেয়ে মারাত্মক ভুল হবে এটি ভাবা যে আমরা নৌ অবরোধ পাশ কাটিয়ে দেশ চালিয়ে নিতে পারব। আমাদের অর্থনীতি বা শত্রুপক্ষ- কাউকেই এই অবরোধে অভ্যস্ত হতে দেওয়া যাবে না।
সমুদ্র ও স্থলপথের খরচের একটি চিত্র তুলে ধরে হারিইরি জানান, চীন থেকে সমুদ্রে একটি কনটেইনার ইরানে আনতে খরচ হয় প্রায় ৩,০০০ ডলার, যেখানে স্থলপথে এর খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১২,০০০ ডলার। ইরান প্রতি বছর তার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর দিয়ে প্রায় ২০ লাখ কনটেইনার আমদানি করে। ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের বদলে স্থলপথ ব্যবহার করলে আমদানি খরচ বছরে প্রায় ১,৮০০ কোটি (১৮ বিলিয়ন) ডলার বেড়ে যাবে।
এছাড়া তিনি সতর্ক করেন, স্থলপথে পরিবহন ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় ইরানের বার্ষিক প্রায় ৫,০০০ কোটি (৫০ বিলিয়ন) ডলারের অ-জ্বালানি রপ্তানি খাতও অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক হয়ে পড়তে পারে।
রেল ও সড়ক পথ দিয়ে হয়তো জরুরি প্রয়োজন কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস মেটানো সম্ভব, তবে সামুদ্রিক বাণিজ্যের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বিকল্প হিসেবে এটি কখনোই কাজ করবে না বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।
সূত্র: আল-জাজিরা