এবার ইরানের কাছে 'ক্ষতিপূরণ' দাবি করলেন ট্রাম্প

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:১২ এএম

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর শর্ত হিসেবে তেহরান যুদ্ধে ক্ষতিপূরণের দাবি তোলার পর, এবার ট্রাম্প প্রশাসনও ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের পাল্টা দাবি জানিয়েছে।

গত ৫০ বছরে ইরানের কারণে যেসব ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে, তার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হবে বলে সোমবার (১০ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন যতক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ প্রদান ও তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করবে, ততক্ষণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ 'হরমুজ প্রণালি' উন্মুক্ত করা হবে না। দুই দেশের সীমান্তঘেঁষা এই জলপথ নিয়ে ইরান ও ওমানের চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা চললেও, ট্রাম্পের এই নতুন দাবি দুই পক্ষের মধ্যকার সমঝোতা প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ কিংবা তাদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য অর্থ চেয়েছে। আমি মনে করলাম এটি ভালো ধারণা। তাই আমরাও গত ৫০ বছরে তারা আমাদের যে ক্ষতি করেছে, তার মূল্য চাইতে যাচ্ছি।

তিনি জানান, এই ক্ষতিপূরণের অর্থ মধ্যপ্রাচ্যে নিহত মার্কিন সেনা পরিবার এবং গত চার মাসে ইরানে নিহত সাধারণ আন্দোলনকারীদের পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, গত চার মাসে ইরানে ৫২,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও তেহরান ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক কম।

এছাড়া ২০০০ সালে ইয়েমেনে আল-কায়েদার হামলায় নিহত ১৭ মার্কিন নৌ সেনার পরিবারকেও ইরানের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত বলে মত দেন ট্রাম্প, যদিও সেই ঘটনার মূল দায়ী ছিল আল-কায়েদা। পাশাপাশি ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজার মানুষের ক্ষয়ক্ষতির দায়ও ইরানের ওপর চাপান।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে নতুন আন্তর্জাতিক নৌপথ নির্ধারণ সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধকে 'আগ্রাসন' আখ্যা দিয়ে তারা মার্কিন সামরিক হুমকি বন্ধের শর্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জুলাই মাসে অবরোধ জোরদারের পর থেকে তারা ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

YA
আরও পড়ুন