ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে দেশটির সরকারি বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ চলছে।
বুধবার রাতে আল-মাআফের জেলার আল-কাদাহা ফ্রন্টে দুই পক্ষের মধ্যে ভারী লড়াই শুরু হয় বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আল-কাদাহা ফ্রন্টে হুথিদের সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলি চলছে। তবে সংঘর্ষে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তাইজ প্রদেশে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। গত আগস্টেও প্রদেশটির বিভিন্ন ফ্রন্টে একাধিক দফায় তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। ২৫ আগস্ট আল-কাদাহা ফ্রন্টসহ তাইজের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে ব্যাপক লড়াইয়ের খবর জানিয়েছিল ইয়েমেনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবা।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার, যার প্রশাসনিক কেন্দ্র বর্তমানে এডেনে, হুথিদের বিরুদ্ধে দেশটিতে অবরোধ আরোপের চেষ্টা এবং তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হুথিরা পাল্টা অভিযোগ করে আসছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনীই ইয়েমেনের ওপর অবরোধ চাপিয়ে দিচ্ছে।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ইয়েমেন সরকার জানিয়েছিল, হুথিদের বিরুদ্ধে তারা একাধিক ফ্রন্টে শতাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। সে সময় তাইজ, মারিব, আল-জাওফ, আল-দালেহ ও হোদেইদাহসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
তাইজ দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতপূর্ণ এলাকা। সরকারি বাহিনী তাইজ শহর নিয়ন্ত্রণ করলেও হুথিরা শহরের আশপাশের বেশ কিছু এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ নিয়ন্ত্রণ করে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা বেড়েছে।
এর আগে সরকারি বাহিনী দাবি করেছিল, তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিদের হামলা ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। আগস্টের এক সংঘর্ষে সরকারপন্থী বাহিনী আল-বারহ ফ্রন্টে ২৭ হুথি যোদ্ধা নিহত এবং আরও ১৯ জন আহত হওয়ার দাবি করেছিল। তবে এসব হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে সংঘাত কম ছিল। তবে চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন এলাকায় আবারও লড়াই বাড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা দেশটিতে পূর্ণমাত্রার সংঘাত পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তাইজের আল-কাদাহা ফ্রন্টে নতুন করে তীব্র লড়াই সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। সংঘর্ষ অন্য ফ্রন্টগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে কি না এবং দুই পক্ষের সামরিক তৎপরতা আরও বাড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।