মার্কিন হামলায় ইরানে নিহত ১৮, নারী-শিশুসহ আহত ১৪২

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহত ও আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কারমানপুরের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত ১৪২ জনের মধ্যে ৬১ জন নারী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী ৪৪ জন। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশু রয়েছে।

কারমানপুর বলেন, ‘প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একজন মানুষ এবং একটি পরিবার রয়েছে।’ হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশের সময় তিনি মানুষের জীবনের ক্ষয়ক্ষতিকে কেবল সংখ্যার মাধ্যমে দেখার পরিবর্তে এর মানবিক দিক বিবেচনার আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক হামলার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাক এলাকায়। ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে হামলা হলে সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানি সূত্রগুলোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে; এপি জানিয়েছে, চারজন নিহত ও অন্তত ৬৮ জন আহত হয়েছেন।

ইরান ওই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে- এমন অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক অবকাঠামো, যার মধ্যে রাডার, বিমান প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সক্ষমতা রয়েছে।

নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বর্তমান লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা। জুনের ১৮ তারিখে যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে জুলাইয়ে আবার সংঘর্ষ শুরু হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও তীব্র হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সেখানে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি করছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত