দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে কানাডা। বাণিজ্য বিরোধ, মার্কিন শুল্কনীতি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন কানাডার নাগরিকরা। ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে তাদের মধ্যে। এমনকি সমানতালে বাড়ছে মার্কিন পণ্য বয়কটের প্রবণতাও।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন পণ্য বয়কটের হিড়িক লেগে গেছে কানাডার বিভিন্ন শহরে। কানাডার অনেক ভোক্তাই এখন মার্কিন পণ্যের বদলে দেশে তৈরি পণ্য কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। একইসঙ্গে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও মার্কিন সরবরাহকারীদের পরিবর্তে কানাডীয় ও অন্যান্য দেশের বিকল্প উৎস খুঁজছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা ইউরোপসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একইসঙ্গে রাজনৈতিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবি জোরালো হয়েছে। সাম্প্রতিক অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের এক জরিপে ৭৬ শতাংশ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে আসার সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বহুদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন বড় ধরনের সংকটে পড়ে গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হঠকারী পদক্ষেপে। এরই মধ্যে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কানাডাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার ও বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ।
কানাডিয়ানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে জনমতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক অ্যাঙ্গাস রিডের জরিপে মাত্র ৪৫ শতাংশ কানাডিয়ান মার্কিন জনগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে ৪৮ শতাংশের মনোভাব নেতিবাচক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব আরও বেশি। জরিপে ৭৯ শতাংশ কানাডিয়ান তার প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বৈরিতা শুধু সাময়িক রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে বাণিজ্য, ভ্রমণ, ভোক্তাদের কেনাকাটা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও। ফলে কয়েক দশকের ঘনিষ্ঠ কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে এখন।