গণমাধ্যমকে ‘বিশ্বাসঘাতক ও নোংরা’ বললেন ট্রাম্প

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসার খবর প্রকাশের পর গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব প্রতিবেদনকে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে ‘নোংরা’ বলেও আক্রমণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘কখনো দেখা যায়নি এমন মাত্রায়’ গোলাবারুদ উৎপাদন করছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুতও করছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের ঘাটতি রয়েছে- এমন খবর যারা বারবার প্রকাশ করছে, তারা ‘বিশ্বাসঘাতক’। তাঁর অভিযোগ, এসব সংবাদমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জয়ী হতে দেখার চেয়ে তাঁকে ব্যর্থ হতে দেখতেই বেশি আগ্রহী।

আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘কার্যত সীমাহীন’ পরিমাণ মাঝারি থেকে উচ্চমানের গোলাবারুদ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান ইরান যুদ্ধ কিংবা ভবিষ্যতে অন্য কোনো যুদ্ধে ব্যবহারের চেয়েও বেশি অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে চাপ বাড়ার বিষয়ে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন রয়েছে। রয়টার্স গত মাসে জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাসের যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী দীর্ঘপাল্লার অত্যন্ত নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের বড় একটি অংশ ব্যবহার করেছে। এতে ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) এক বিশ্লেষণেও মার্কিন প্রতিরক্ষা মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। সংস্থাটি জুলাইয়ে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকের মজুত যুদ্ধের আগের মাত্রার এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি এবং থাড প্রতিরোধকের মজুত প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ইরান যুদ্ধে টমাহক, জেএএসএসএম ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মতো বিভিন্ন আক্রমণাত্মক অস্ত্রও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। নতুন উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে বিতর্কটি অবশ্য নতুন নয়। গত আগস্টেও ট্রাম্প মার্কিন অস্ত্রভান্ডার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সমালোচনা করেছিলেন এবং তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এবারও তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ব্যবহারের জন্য অস্ত্র উৎপাদন ও মজুত বাড়াচ্ছে এবং শিগগিরই মিত্র দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি আবার শুরু করা হবে।

এদিকে সংবাদমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আক্রমণ নিয়ে প্রেস স্বাধীনতা সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইরান যুদ্ধের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্র মজুত নিয়ে সরকারের বিপরীত তথ্য প্রকাশ করাকে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখছেন তারা।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন