ইরানের কোনো সম্পদে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন তেল ও গ্যাস কোম্পানির স্থাপনাগুলোতে হামলা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ বলেছেন, ওই অঞ্চলের জ্বালানি উৎপাদনব্যবস্থা ‘বিস্তৃত, সহজলভ্য ও উন্মুক্ত’। ফলে সেখানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের তেল-গ্যাস কোম্পানি ও তাদের স্থাপনাগুলোও একইভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
কালিবাফ বলেন, ‘ইরানের সম্পদে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদেও হামলা হবে। আমরা এরই মধ্যে তা প্রমাণ করেছি।’ এ সময় ইরানের হামলায় অকার্যকর হয়ে পড়া মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর তেলের দাম একপর্যায়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার বহরকে ‘অরক্ষিত’ বলে সতর্ক করার পর কালিবাফের এই হুঁশিয়ারি এল। ইরানের শীর্ষ আলোচকও কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এ অঞ্চলের তেল ও গ্যাস উৎপাদনব্যবস্থা বিস্তৃত, সহজলভ্য ও উন্মুক্ত। এই নৌসীমা ও সেখানকার স্থাপনাগুলোতে থাকা মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোও একই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’ এর আগে রোববার ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই উপসাগরে নতুন একটি নিয়ন্ত্রিত এলাকা ঘোষণার পরিকল্পনার কথা জানান। ওই এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।
রেজাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নাশকতা, হুমকি ও ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করলেই আমরা হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার নিশ্চয়তা দেব।’