উপসাগরে মার্কিন ট্যাংকার হামলা এখন ‘ধারাবাহিকতায়’ পরিণত হচ্ছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন এক বিপজ্জনক ধারায় প্রবেশ করেছে। ইরান মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা করলেই পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যেও এই পাল্টা হামলার নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মাইক হান্নার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কয়েক দিনের ব্যবধানে একই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটায় এটি এখন একটি ‘ধারাবাহিকতায়’ পরিণত হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা এবং তার জবাবে ইরানের তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা—দুই পক্ষের সংঘাতের নতুন চক্র তৈরি করেছে।

সর্বশেষ দফায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দুবার লক্ষ্য করার পর পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ওমান উপসাগরে এবং একটি ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে ছিল।

সেন্টকমের দাবি, এসব ট্যাংকার আইআরজিসিকে অর্থায়নকারী একটি বিশাল ‘শ্যাডো নেটওয়ার্কের’ অংশ। হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি এবং আক্রান্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও একই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা দেখা যায়। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত করে। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপের কাছে ও জাস্ক উপকূলে দুটি ট্যাংকারকে স্থায়ীভাবে অচল এবং ওমান উপসাগরে আরেকটি ট্যাংকারকে সম্পূর্ণ অকার্যকর করার কথা জানায় সেন্টকম।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভবিষ্যতে এমন হামলা আরও হতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর ইরানের হামলার চেষ্টা হলে ইরানের তেলবাহী বহরকে লক্ষ্য করে অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষতি করা হবে। ফলে সামরিক সংঘাত এখন স্থল বা আকাশসীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি ইরানের তেল রপ্তানি অবকাঠামো ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপরও আঘাত হানছে।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব দাবির কিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের জায়গা হলো, এই পাল্টাপাল্টি হামলার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উপসাগরীয় জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, তেল সরবরাহ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এখানে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।