যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়েছে। পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের চারটি শহর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা একটি ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরান আরও দাবি করেছে, তারা মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে এসব দাবিতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে আম্মান।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, ইরানের আইআরজিসি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দুই দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করার চেষ্টা করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করার কথা জানায়। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, হামলার আগে ট্যাংকারগুলোর ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ৭৩ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনাতেও আগুন লাগে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন সরাসরি দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের মিত্র ও আঞ্চলিক অংশীদারদেরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলছে। জর্ডান ও সৌদি আরবের পাশাপাশি উপসাগরীয় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আইআরজিসি কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোর ক্রুদের সরে যাওয়ার সতর্কতাও দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে এসেছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথে হামলার আশঙ্কায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারের কাছাকাছি উঠে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন।
সব মিলিয়ে, ইরানি ট্যাংকারে মার্কিন হামলার পর তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত করার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে হামলা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি অবৈধ, একমত সব ইইউ দেশ
মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে ১৫৫ বাংলাদেশিসহ আটক ২৩৪