ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে এসব হামলায় মার্কিন ঘাঁটি বা যুদ্ধজাহাজে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ইরানের দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও এখন পর্যন্ত যুদ্ধজাহাজে ক্ষয়ক্ষতির ইরানি দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর এই পাল্টা হামলা করা হয়। আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় যুদ্ধবিমান রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি তারা মার্কিন নৌবাহিনীর DDG-119 ও DDG-53 ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ করার দাবি করেছে।
তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৮টি ধ্বংস বা প্রতিহত করেছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলেও জানিয়েছে আম্মান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, ইরানের আইআরজিসি দুই দিনের মধ্যে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দুইবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করার চেষ্টা করে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, জাহাজটি হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি। এর পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালিয়ে গেলে প্রতিবারই এর জবাবে ইরানের আরও ট্যাংকার হারাতে হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার একটি নতুন চক্র তৈরি হয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলী আবদোল্লাহি এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানি ট্যাংকারে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করা হবে। সর্বশেষ হামলাকে সেই হুমকিরই বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছে তেহরান।
তবে আইআরজিসির দাবি করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এ মুহূর্তে হামলার দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যেই পরিস্থিতি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন শুধু দুই দেশের সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই; তেলবাহী জাহাজ, সমুদ্রপথ ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোও সংঘাতের সরাসরি অংশ হয়ে উঠছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় জ্বালানি পরিবহনব্যবস্থায় নতুন করে ঝুঁকি বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। সর্বশেষ উত্তেজনার মধ্যে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে।
পূর্ব জর্ডানে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
উপসাগরে মার্কিন ট্যাংকার হামলা এখন ‘ধারাবাহিকতায়’ পরিণত হচ্ছে