জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনা স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছিলো ইরান!

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর আগে ইরান চীনা স্যাটেলাইটের উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবি ব্যবহার করেছিলো বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পেতে তেহরান আগে থেকেই ওই মার্কিন ঘাঁটির উচ্চ-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করেছিল।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে এসব স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম তারা প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে বেইজিং সরাসরি হামলায় জড়িত ছিল—এমন অভিযোগও তারা করেননি।

তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের শীর্ষ কর্মকর্তারা চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভিযোগের বিষয়টি আলোচনা করেছেন। জবাবে চীনা পক্ষ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং এ ধরনের দাবির পক্ষে প্রমাণ চেয়েছে।

এর আগে গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানকে স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বা ছবি সরবরাহের সঙ্গে জড়িত।

মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি জর্ডানে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাঁটিটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে সামরিক ঘাঁটির অবস্থান, অবকাঠামো ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব। ফলে এ ধরনের উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবি কোনো হামলার পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইরান ঠিক কী ধরনের ছবি পেয়েছিল এবং সেগুলো হামলার পরিকল্পনায় কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক বা বেসরকারি স্যাটেলাইট তথ্য সামরিক অভিযানে ব্যবহারের বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।