'বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে ইরান'

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ এএম

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে বাহরাইনে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও। তাঁর এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সদর দপ্তরটির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

গত বুধবার দ্য ইপক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাং কাও বলেন, ইরানের হামলায় বাহরাইনের মার্কিন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি বর্ণনা করতে তিনি বলেন, “তারা বাহরাইনকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রভাব নিয়ে এটি বিরল সরকারি স্বীকারোক্তি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ ছয় মাসে প্রবেশ করার সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনাও বাড়ছে।

বাহরাইনের এই মার্কিন স্থাপনাটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। ফলে এর অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তা মার্কিন বাহিনীর আঞ্চলিক মোতায়েন, রসদ সরবরাহ এবং সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

হাং কাওয়ের বক্তব্য সামনে আসার পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

আরাগচি লেখেন, “ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাওয়ের অকপট স্বীকারোক্তিকে আমরা স্বাগত জানাই।”

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তেহরানও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের শক্তির অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। এসব স্থাপনা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিমান, নৌ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে কোনো ঘাঁটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, বরং সামরিক পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে পারে।

বাহরাইনের স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করার ঘটনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত নিজেদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সীমিত রাখে। হাং কাওয়ের বক্তব্য তাই ইরানের হামলার সক্ষমতা এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

একই সঙ্গে জর্ডানেও মার্কিন সামরিক স্থাপনা ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে বাহরাইন ও জর্ডানের ঘটনাগুলো উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি পুনর্গঠন, সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাস এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। আর তেহরান এসব হামলার মাধ্যমে দেখাতে চাইছে—মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোও ইরানের পাল্টা আঘাতের বাইরে নয়।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত