হরমুজ প্রণালি এখনো ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডই দায়ী। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে তাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে এর জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা।
ইরানি মুখপাত্রের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে ইরানের পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ বন্ধের দাবি
ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এই সংকীর্ণ জলপথের ওপর বিভিন্ন দেশ নির্ভরশীল।
ফলে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়ে। জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তেলের দামও বাড়তে পারে।
৬০ দিনের জন্য পুনরায় খোলার সমঝোতা
ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হয়। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি ৬০ দিনের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।
তেহরানের দাবি, ওই সমঝোতা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক জাহাজের নিরাপদ ও বৈধ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল ইরান।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করায় তেহরানকে আবারও হরমুজ প্রণালিতে বন্ধের ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে প্রভাব
ইরানের এমন বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস সরবরাহপথগুলোর একটি হওয়ায় এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের দাবি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য তেহরানকে দায়ী করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড ও আঞ্চলিক নীতির দিকে নজর দেওয়া উচিত।
তবে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তেহরান যেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ নৌ চলাচলের সক্ষমতার কথা বলছে, সেখানে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর এর বাস্তব প্রভাব এবং ভবিষ্যতে প্রণালিটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হরমুজ ঘিরে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তেল ও গ্যাসের সরবরাহ, আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর চাপ পড়তে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধে ৫ লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত: ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান
গোপন কৌশলের যুদ্ধে বিশেষ দক্ষ হুথিরা