অর্থায়নের তীব্র ঘাটতির কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ২০টিরও বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের অর্থ কেবল জেনারেটর বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়; এর সরাসরি প্রভাব পড়বে অস্ত্রোপচার কক্ষ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), ভেন্টিলেটর এবং অক্সিজেন কেন্দ্রগুলোতে। এতে ইনকিউবেটরে থাকা শিশু, ডায়ালাইসিস রোগী ও জটিল রোগীদের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়বে।
এছাড়া এই সংকটের ফলে অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং ওষুধ ও প্রতিষেধক সংরক্ষণের কোল্ড চেইন ব্যবস্থা অচল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে বিছানায় শুয়ে থাকা রোগীদের নীরবে হত্যা করার শামিল বলে অভিহিত করেন।
এদিকে প্রয়োজনীয় তেল, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে ইতোমধ্যে গাজার বেশ কয়েকটি হাসপাতালের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জেনারেটর বন্ধ হয়ে গেছে বলে রোববার জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে সংঘাত শুরুর পর থেকে পুরো গাজা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকায় হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম চালু রাখতে একমাত্র ভরসা ছিল এই জেনারেটরগুলো।
গাজা সরকার ডব্লিউএইচও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দাতাসংস্থাগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও জ্বালানি প্রবেশের অনুমতির বিষয়টি ইসরায়েল এড়িয়ে চলছে বলেও অভিযোগ করেছে গাজার তথ্য কার্যালয়।
সূত্র: আনাদোলু