জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ফের আব্বাসকে ভিসা দিলো না যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি যোগ দেওয়ার জন্য আবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এটি টানা দ্বিতীয় বছর, যখন আব্বাসকে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হলো।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কেন ভিসা প্রত্যাখ্যান?

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও Palestine Liberation Organization (PLO) তাদের পূর্ববর্তী কিছু প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) ইসরায়েল-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া; সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জনের চেষ্টা; ফিলিস্তিনি বন্দিদের পরিবারের জন্য অর্থ প্রদানের অভিযোগ; সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডকে মহিমান্বিত করার অভিযোগ।

এসব কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, PLO সদস্য ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হবে।

গত বছরও ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন আব্বাস

২০২৫ সালেও যুক্তরাষ্ট্র আব্বাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে আব্বাস নিউইয়র্কে গিয়ে সরাসরি বক্তব্য দিতে পারেননি এবং ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।

এবারও আব্বাস সরাসরি উপস্থিত হতে না পারলেও জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। জাতিসংঘে ইতোমধ্যে স্বীকৃত ও অবস্থানরত ফিলিস্তিনি কূটনীতিকরা অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রও জাতিসংঘে নিযুক্ত PLO Observer Mission-এর কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ছাড় বহাল রেখেছে।

এর কূটনৈতিক তাৎপর্য

আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটছে, যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি, গাজা যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের আন্তর্জাতিকীকরণ নিয়ে জাতিসংঘে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ফলে আব্বাসের সরাসরি উপস্থিতি না থাকা সাধারণ পরিষদের আলোচনায় ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের অংশগ্রহণের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে বিষয়টি শুধু আব্বাসের ব্যক্তিগত ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা নয়; একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র PA ও PLO-র কর্মকর্তাদের ওপর বিদ্যমান ভিসা নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করেছে।