জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (PA)-এর কর্মকর্তা এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (PLO)-এর সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি পূরণে PA ও PLO আবারও ব্যর্থ হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৬ সেপ্টেম্বরের বিবৃতি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে না। তবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে PLO Observer Mission-এ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ছাড় বহাল রাখা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগগুলো কী?
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, PA ও PLO ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-এ পদক্ষেপ নিয়েছে; সরাসরি আলোচনার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করেছে; ফিলিস্তিনি বন্দি ও তাদের পরিবারের জন্য অর্থ প্রদান অব্যাহত রেখেছে; মার্কিন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্য ও শিক্ষা উপকরণে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মহিমান্বিত করেছে।
এগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র Middle East Peace Commitments Act of 2002 (MEPCA) এবং সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী অঙ্গীকারের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
২০০২ সালের আইনে কী আছে?
MEPCA-এর ৬০৪ ধারায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট যদি নির্ধারণ করেন যে PLO বা PA তাদের নির্ধারিত অঙ্গীকার মেনে চলছে না, তাহলে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে PLO ও PA কর্মকর্তাদের মার্কিন ভিসা প্রত্যাখ্যান অন্যতম। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করার ক্ষমতাও রাখেন।
মাহমুদ আব্বাসের ক্ষেত্রেও প্রভাব
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ভিসাও প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি অনিশ্চিত/অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এটি টানা দ্বিতীয় বছর আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ার ঘটনা।
২০২৫ সালে আব্বাস নিউইয়র্কে যেতে না পারায় ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এবারও ফিলিস্তিনি পক্ষ দূরবর্তীভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ চাচ্ছে; এ বিষয়ে জাতিসংঘে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব কি বন্ধ হচ্ছে?
না। ভিসা নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করা; জাতিসংঘে থাকা স্বীকৃত ফিলিস্তিনি কূটনীতিকদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। বিশেষ করে নিউইয়র্কে PLO Observer Mission-এর কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ছাড় বহাল রয়েছে।
ঘটনাটির মূল তাৎপর্য হলো—জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক তৎপরতা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব পদক্ষেপ শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে—যা মার্কিন সরকারের অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।
সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের ভিডিও প্রকাশ করলো হুথিরা
চীনের সঙ্গে আলোচনা সফল, জিনপিংয়ের শান্তি পরিকল্পনায় ইরানের সমর্থন
নিউইয়র্কে গাজার নিহত শিশুদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ