পূর্ব জেরুজালেমে ‘গ্যাস বোমা’ নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েল

অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় পূর্ব জেরুজালেমের আল-ইসাওইয়া এলাকায় ‘গ্যাস বোমা’ নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আল জাজিরার হাতে আসা ভিডিওতে আল-ইসাওইয়া এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর নিক্ষেপ করা গ্যাস বোমার পর ওই আগুন ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরাঞ্চলের কাফর আকাব এলাকায়ও ইসরায়েলি সেনারা অভিযান চালিয়েছে বলে ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

পশ্চিম তীরে নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে আকরাবা শহরের আল-ক্রোম এলাকাতেও ইসরায়েলি বাহিনী প্রবেশ করে অভিযান চালিয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর জেনিন, নাবলুস, রামাল্লাহ, বেথলেহেমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও তল্লাশি চালানো হয়। কিছু এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি তরুণদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের খবর পাওয়া যায়।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর আকরাবা এলাকায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনাও জানিয়েছিল আল জাজিরা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি ছিল, নিহত ব্যক্তি সশস্ত্র অবস্থায় সেনাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো ঘটনাটিকে ইসরায়েলি অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করে।

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (OCHA) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের হতাহত বা সম্পদের ক্ষতি হয়েছে—এমন ১ হাজার ৬০০টির বেশি বসতি স্থাপনকারী-সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনা ২৭৫টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করেছে।

একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, বাড়িঘর ধ্বংস এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে পশ্চিম তীরে মানবিক পরিস্থিতির ওপরও চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

পশ্চিম তীরে অভিযান ও সহিংসতার পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেমেও ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর উচ্ছেদ ও ধ্বংসের ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত OCHA-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের শুরু থেকে পশ্চিম তীরজুড়ে ধ্বংস ও অন্যান্য কারণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

আল-ইসাওইয়া, কাফর আকাব ও আকরাবায় সর্বশেষ অভিযানে হতাহত বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।