সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা গোপনে দেশটির সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছেন, এমন মূল্যায়নে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা মূল্যায়ন অনুযায়ী, কর রাজস্ব থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সহায়তা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন উৎসের অর্থ বড় আকারের স্থায়ী সেনাবাহিনী গঠন ও অস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহে ব্যয় করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, ১৫ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়ার অবকাঠামো পুনর্গঠন, দেশটির পুনর্বাসন কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত বেসামরিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিবর্তে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে শারার সরকার। একই সঙ্গে সামরিক সম্প্রসারণের কৌশল গোপন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও এসব মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, শারার সামরিক পরিকল্পনার একটি লক্ষ্য হলো এমন পর্যায়ে পৌঁছানো, যখন তিনি লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইরাকে ইরানপন্থি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবেন। এ জন্য সামরিক শক্তি বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো শেষ হওয়ার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে বিশেষ করে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমে আসার অপেক্ষা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা কমে যেতে পারে বলে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলের মূল্যায়ন।
এদিকে সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সময়ে ইউরোপের দেশগুলো, বিশেষ করে জার্মানি, দেশটিকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং শারার সঙ্গে সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ করছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হলো শরণার্থীদের প্রবাহ কমানো এবং তাদের সিরিয়ায় ফেরার পথ তৈরি করা। সিরিয়াকে আর যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা না করা গেলে শরণার্থীদের দেশে ফেরানোর পক্ষে ইউরোপীয় সরকারগুলোর অবস্থান তুলে ধরা সহজ হবে বলেও তারা মনে করেন।
অন্যদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি আরব দেশ শারাকে নিজেদের ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, এসব দেশ অর্থনৈতিক সহায়তা ও বিভিন্ন সম্মান দেওয়ার মাধ্যমে শারার নীতিকে প্রভাবিত করতে, তাকে চরমপন্থি উপাদান থেকে দূরে রাখতে এবং তার নীতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে। শারার অতীতের জিহাদি কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও এসব প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুরস্কের সঙ্গে শারার সম্পর্কও জটিল বলে উল্লেখ করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভাষ্য, শারা সহজে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের হাতে সিরিয়ার ভূখণ্ড তুলে দেবেন না কিংবা সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণও তুরস্ককে দিতে চাইবেন না। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শারা তার নেতৃত্বে সিরিয়াকে এমন একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করতে চান, যা একই সঙ্গে বিভিন্ন দিকে প্রভাব বিস্তার করবে এবং একপর্যায়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, শারা ক্ষমতায় আসার পর যখন তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে ছিলেন, তখন তার সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ ইসরায়েল কাজে লাগাতে পারেনি। ওই সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকা ও গোলান মালভূমির অবস্থান নিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল বলে তারা মনে করেন। কিন্তু ইসরায়েলের দ্বিধা এবং অন্যান্য অঞ্চলে মনোযোগ দেওয়ার কারণে সেই অগ্রগতি হয়নি বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী, এর সদস্য এবং সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহল। একই সঙ্গে সিরিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ইসরায়েলের সামরিক স্বাধীনতা বা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা ঠেকাতে বিস্তৃত সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
জোরপূর্বক সুবিধা আদায়ের এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা শেষ: গালিবাফ
যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত ইরানবিরোধী প্রস্তাব আটকে দেওয়ায় চীন-রাশিয়াকে কৃতজ্ঞতা
ইরানে যুদ্ধাপরাধ নিয়ে জাতিসংঘের অভিযোগ উড়িয়ে দিলো হোয়াইট হাউস