জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাক্রোঁ এ কথা জানান। তিনি বলেন, দুই দেশ জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ কমাতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে কাজ করবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে হরমুজ দিয়ে মাত্র ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে তার আগের সপ্তাহে সংখ্যা ছিল ৩৭। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।

ম্যাক্রোঁ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউক্রেনের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা হামলা স্থগিতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে ফ্রান্স।

তিনি বলেন, বেসামরিক জনগণকে অবশ্যই সুরক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তির শর্ত নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব একটি গুরুতর আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।

ম্যাক্রোঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার ও ইউক্রেন যুদ্ধ—দুই বিষয়ই আলোচনায় আসে।

হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ ফ্রান্সের জন্য নতুন নয়। এর আগে এপ্রিল মাসে ম্যাক্রোঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হরমুজ প্রণালি নৌ চলাচল উদ্যোগ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেছিলেন।

ফ্রান্স জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্র আইন মেনে হরমুজে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারে একটি প্রতিরক্ষামূলক বহুজাতিক মিশন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং জাহাজমালিক ও বিমা কোম্পানিগুলোকে আবার এই পথে বাণিজ্যিক পরিবহন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া।

তবে বর্তমানে হরমুজে জাহাজ চলাচল কতটা এবং কীভাবে সুরক্ষিত করা হবে, সে বিষয়ে ম্যাক্রোঁ ও ট্রাম্পের বৈঠকের পর বিস্তারিত সামরিক পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প রপ্তানি পথ ব্যবহারের চেষ্টা করলেও হরমুজের গুরুত্ব এখনো অত্যন্ত বেশি।