রোববার নেতানিয়াহুর বিদায় ঘণ্টা!

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব কে পাবেন, সে বিষয়ে আগামী রোববার সিদ্ধান্ত জানাবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নাকি বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট—কাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ম্যান্ডেট দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখন দেশটির রাজনীতিতে চলছে আলোচনা-সমঝোতা।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে হারজগ জানান, ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটের ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকটের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ জন। তবে এই সংখ্যার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয় বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট। রাজনৈতিক জোটগুলোর ভেতরে ও পরস্পরের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় কে কার্যকরভাবে সরকার গঠন করতে পারবেন, তা আরও যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ২৭টি আসন পেলেও তাঁর নেতৃত্বাধীন ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের সঙ্গে থাকা চারটি ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আর আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দল পেয়েছে ১৯টি আসন।

এই দুই আরব দলই আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে আইজেনকট ও নেতানিয়াহু—দুজনেই আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে আইজেনকটের পক্ষে আইনপ্রণেতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপারিশ থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট তৈরি করা এখনো নিশ্চিত নয়।

নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী অতি-ধর্মীয় দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও এবার কোনো প্রার্থীর পক্ষে সুপারিশ করেনি। অতি-ধর্মীয় ইহুদি পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইন পাস না হওয়ায় দলটির সঙ্গে নেতানিয়াহুর দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

হারজগ জানিয়েছেন, রোববার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে তিনি কয়েকটি দলের নেতার সঙ্গে আরও সরাসরি আলোচনা করবেন। যিনি সরকার গঠনের দায়িত্ব পাবেন, তাঁর হাতে জোট গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় থাকবে। প্রয়োজন হলে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে।

এ সময় নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলা হলেও দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ অবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর ও নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

এএইচএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত