রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া রেকর্ডসংখ্যক আসন পেয়েছে। প্রায় সম্পূর্ণ ফলাফলে দলটি ৪৫০ আসনের স্টেট দুমার মধ্যে ৩৫৫টি আসন পেতে যাচ্ছে। এর ফলে পার্লামেন্টে দলটির সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি-লিস্টের ভোটে ৫৭.৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটির ভোটের হার ছিল ৪৯.৮ শতাংশ। এবারের ফল দলটির সংসদীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন পাওয়ার রেকর্ড তৈরি করেছে।
রাশিয়ার ৪৫০ আসনের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার অর্ধেক আসন দলীয় তালিকার ভিত্তিতে এবং বাকি ২২৫টি আসন একক নির্বাচনী এলাকার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। প্রাথমিক হিসাবে ইউনাইটেড রাশিয়া ২২৫টি একক আসনের মধ্যে ২০৮টিতেও এগিয়ে ছিল।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই ছিল দেশটির প্রথম সংসদ নির্বাচন। তিন দিন ধরে ভোটগ্রহণ শেষে রোববার ভোট শেষ হয়।
এই নির্বাচনে রাশিয়া ২০২২ সালে দখল করে নেওয়া ও পরে একতরফাভাবে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের বাসিন্দাদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ দেয়। ক্রিমিয়াতেও ভোট হয়েছে। ইউক্রেন এসব ভোটকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে; জাতিসংঘ ও অধিকাংশ দেশও ওই অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।
বিরোধীদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক
নির্বাচনের আগে ও চলাকালে রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সমালোচনা ছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের নীতির প্রকৃত বিরোধিতাকারী প্রার্থীদের বড় একটি অংশ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি এবং যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিকদের কেউ কারাবন্দি হয়েছেন, আবার কেউ দেশ ছেড়ে গেছেন।
রাশিয়ার উদারপন্থী ইয়াবলোকো পার্টি, যেটিকে দেশটির একমাত্র নিবন্ধিত যুদ্ধবিরোধী দল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে কোনো আসন পায়নি। দলটির ফেডারেল তালিকা বাতিল করা হয়েছিল এবং অল্পসংখ্যক প্রার্থী একক আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, নভগোরোদ আঞ্চলিক পার্লামেন্টে দলটি ৫ শতাংশের সীমা অতিক্রম করে একটি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এলা পামফিলোভা জানিয়েছেন, প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯.৩ শতাংশ। কমিশনের হিসাবে এটি সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ উপস্থিতির হার। তবে নির্বাসিত বিরোধী কর্মীরা ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন; নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ভোটকে ‘স্বচ্ছ’ বলে দাবি করেছে।
অন্যদিকে, এবারের নির্বাচনে ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (OSCE) পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম সংসদ নির্বাচন হওয়ায় ফলাফলটি পুতিন সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে পুতিন এই ভোটকে জাতীয় ঐক্য ও তার নীতির প্রতি সমর্থনের পরীক্ষার মতো করে উপস্থাপন করেছিলেন। ইউনাইটেড রাশিয়ার ৩৫৫ আসনের ফলাফল তাকে স্টেট দুমায় আগের চেয়েও বড় নিয়ন্ত্রণ দিয়েছে।
তবে নির্বাচনের ফলকে রাশিয়ার জনগণের যুদ্ধ-সমর্থনের সরাসরি পরিমাপক হিসেবে ব্যাখ্যা করা কতটা যথাযথ, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারণ যুদ্ধবিরোধী বহু প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও বিধিনিষেধ ছিল। ফলে ফলাফল থেকে রুশ জনগণের সামগ্রিক মতামত সম্পর্কে সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্বাচনী কাঠামো—দুই বিষয়ই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ৩০ জানুয়ারি
পানির সংকটে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী