ইসরায়েলি পণ্য আমদানি বন্ধ করছে বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্য নিজেদের বাজারে প্রবেশ বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিয়েছে বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের পর নতুন করে এই দুটি দেশও সেই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাটি ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। দেশটির কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত বা আংশিকভাবে উৎপাদিত কোনো পণ্য নেদারল্যান্ডসে আমদানি, কেনাবেচা করা যাবে না। এমনকি ব্যক্তিগত লাগেজে উপহার বা স্যুভেনির হিসেবেও এসব পণ্য নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তবে নেদারল্যান্ডসের এই ব্যবস্থা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১৯৬৭ সালের সীমার ভেতরের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞাটি নির্দিষ্টভাবে অধিকৃত ভূখণ্ডের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে।

Isreal-2

বেলজিয়ামের ব্যবস্থায় কী রয়েছে?
বেলজিয়াম জুলাইয়ে ইসরায়েলি বসতি থেকে আসা পণ্যের জন্য একটি বিশেষ আমদানি-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুমোদন করে। দেশটির সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, বিশেষ করে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য এসেছে বলে প্রমাণিত হলে বা যৌক্তিকভাবে এমন সন্দেহ থাকলে আমদানির অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হবে।

বেলজিয়ামের ব্যবস্থায় ১২০ দিনের একটি রূপান্তরকাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক কার্যক্রমের জন্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। বিষয়টি দেশটির কাউন্সিল অব স্টেটের পরামর্শের জন্যও পাঠানো হয়েছে।

ইউরোপে বাড়ছে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ
ইসরায়েলি বসতির পণ্য নিয়ে ইউরোপে জাতীয় পর্যায়ে পদক্ষেপের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আয়ারল্যান্ড, স্পেন, নরওয়ে, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ নিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ আরও কয়েকটি দেশ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর জাতীয় বা ইউরোপীয় পর্যায়ে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগের কথা জানায়।

নেদারল্যান্ডসের নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় কৃষিপণ্যও পড়ছে। এসব বসতি থেকে ইউরোপের বাজারে যেসব পণ্য যায়, তার মধ্যে অ্যাভোকাডো, খেজুর, কমলা, আঙুর ও তাজা ভেষজজাত পণ্য রয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনো একই ধরনের সর্বসম্মত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি। ইইউর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে কয়েকটি দেশ নিজেদের জাতীয় আইনের মাধ্যমে আলাদাভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন
ইসরায়েলি বসতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্কের কেন্দ্রেও রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীর। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক পরামর্শমূলক মতামতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত উপস্থিতিকে বেআইনি বলে উল্লেখ করে এবং তা দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানায়। আদালত আরও বলেছিল, অন্য রাষ্ট্রগুলোর এমন বাণিজ্য বা বিনিয়োগ সম্পর্ক এড়িয়ে চলা উচিত, যা ওই পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

ইসরায়েল অবশ্য পশ্চিম তীরকে আন্তর্জাতিক আইনের ভাষায় ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে এবং বসতিগুলোর বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান পোষণ করে।

বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তাই শুধু বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন নয়; অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশের নীতিগত অবস্থান কঠোর হওয়ারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এসব জাতীয় পদক্ষেপ ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামগ্রিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কতটা বদলাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।