রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি খাতে ইউক্রেনের হামলা জোরদার এবং বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বৈঠক হতে যাচ্ছে।
সপ্তাহের শেষে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে হামলা আরও জোরদার করে ইউক্রেন। মস্কো অঞ্চলে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালানো হয়। ওই হামলায় একটি প্রধান তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনজন নিহত হন। সোমবার ট্রাম্প বলেন, জ্বালানি সংকটে পুরো বিশ্ব ভুগছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করছে। ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে রাশিয়া তাদের ডিজেল তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। দেশটির অনেক ডিজেল শোধনাগার ধ্বংস হয়ে অন্তত সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে ‘হাস্যকর ও অন্তহীন’ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। তার দাবি, প্রতি মাসে ২৫ হাজার মানুষ, যাদের অধিকাংশই সৈন্য—নিহত হওয়ায় পুরো বিশ্ব ভুগছে। রাশিয়া ইউক্রেনের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে এবং দেশটির শহরগুলোতে রাতের বেলা ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেও ট্রাম্প জ্বালানি-সংক্রান্ত সংঘাত বাড়ার জন্য কিয়েভের হামলাকে দায়ী করেছেন।
অন্যদিকে জেলেনস্কি সোমবার জানান, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উত্তেজনা কমানোর বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাশিয়াকে ইউক্রেনের জ্বালানি খাত, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও খাদ্য রপ্তানির ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। এর বিনিময়ে ইউক্রেনও উত্তেজনা কমানোর অনুরূপ পদক্ষেপ নেবে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। গত সপ্তাহে আয়ারল্যান্ড সফরের সময় ট্রাম্প সরাসরি জেলেনস্কিকে রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেন অন্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে, কিন্তু ডিজেল জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করাই উচিত, কারণ এতে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
রোববার ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে ফোনে কথা হয়। ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’কে জানান, ওই আলোচনার মূল বিষয় ছিল ‘ডিজেল, ডিজেল ও ডিজেল’। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়, যা ছিল রেকর্ড। গত বছরের একই সময়ে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ১৯ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ হামলার পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি নেতিবাচক বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা ট্রাম্পের। এছাড়া গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল এবং ভেনেজুয়েলার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ডেলসি রদ্রিগেজসহ প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী পক্ষগুলোর সঙ্গেও তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার ভাষণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জটিল সমস্যা মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কথা বলবেন। তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করা বা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় থাকা শান্তি চুক্তিগুলোর কথাও তুলে ধরবেন।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প আগামভাবে একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং রাশিয়াও একইভাবে কাজ করতে রাজি হয়েছে। তবে বাস্তবে এমন কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। এরপরও ইউক্রেনের জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে।
হুথিদের মোকাবিলায় সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য
'মার্কিন সাবমেরিন ড্রোনের উন্নত বিকল্প তৈরি করবে ইরান'
'ইরানিদের অধিকার তুলে ধরাই নিউইয়র্ক সফরের মূল লক্ষ্য'
মেটার মিউজ ১২ দিনে ডাউনলোড হয়েছে ২৮ লাখ