যুদ্ধের পর ইরান এখন ‘বিশ্ব পরাশক্তি’: মাহমুদ নবভিয়ান

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। বরং এ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির আইনপ্রণেতা মাহমুদ নবভিয়ান। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধের পর ইরান এখন একটি ‘বিশ্ব পরাশক্তি’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে নবভিয়ান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল দেশটির সভ্যতা ধ্বংস, ভূখণ্ড বিভক্ত করা, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার উৎখাত এবং পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিশ্চিহ্ন করা। কিন্তু এসব লক্ষ্য অর্জনে তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নবভিয়ানের ভাষ্য, ইরানের প্রতিরোধ ও সামরিক অভিযানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইরানের কৌশলগত শক্তির অন্যতম উৎস হিসেবে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণের কথাও উল্লেখ করেন এই আইনপ্রণেতা। তাঁর দাবি, যুদ্ধের ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরানের প্রভাব বেড়েছে এবং দেশটি বিশ্ব পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে ভিন্ন বয়ান তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন নবভিয়ান। তাঁর অভিযোগ, ভীত এবং পশ্চিমাপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু মহল যুদ্ধের জয়-পরাজয়ের প্রকৃত চিত্র উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নবভিয়ান এসব মন্তব্য করেন। নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেই ইরানি আইনপ্রণেতার এই বক্তব্য সামনে এল।

তবে ইরান ‘বিশ্ব পরাশক্তি’তে পরিণত হয়েছে—এটি নবভিয়ানের রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও দাবি; স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন নয়।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত