মার্কিন একটি সাবমেরিন ড্রোনের নকশা ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে তা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে উন্নত বিকল্প তৈরি করবে ইরান বলে জানিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। তার দাবি, আইআরজিসির নৌবাহিনীর হাতে আসা ওই সাবমেরিন ড্রোনে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে এবং সেগুলো বিশ্লেষণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় উন্নত মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন মোহেবি। তিনি বলেন, ওই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলোর কিছু ইরানের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
মোহেবি এ ক্ষেত্রে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, এই যুদ্ধবিমানে উন্নত ধাতব সংকর, সক্ষমতা, রাডার ফাঁকি দেওয়ার প্রযুক্তি, উড্ডয়ন উচ্চতা এবং অস্ত্র বহনের সক্ষমতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্রের দাবি, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কিছু ব্যবহৃত এফ-৩৫কে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর নতুন ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
তিনি আইআরজিসির নৌবাহিনীর হাতে আসা একটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোনের কথাও উল্লেখ করেন। মোহেবি বলেন, ওই সাবমেরিন ড্রোনে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে এবং সেটি এখন ইরানি বাহিনীর হাতে রয়েছে। এসব প্রযুক্তির নকশা বিশ্লেষণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
মোহেবির বক্তব্য অনুযায়ী, আইআরজিসির হাতে আসা সাবমেরিন ড্রোনটির প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর বিভিন্ন সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করবে ইরান।
এ ছাড়া ইরানের কাছে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক ও পরিবহন বিমান, নজরদারি বিমান এবং ডুবো ও চালকবিহীন নৌযান রয়েছে বলেও দাবি করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, বর্তমানে ইরানের কাছে যুদ্ধ, সহায়তা, পরিবহন ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বিমান রয়েছে।
তবে রয়টার্সের উদ্ধৃত বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে আসা এই সাবমেরিন ড্রোন থেকে দেশটি বড় ধরনের সামরিক সুবিধা অর্জন করবে, এমন সম্ভাবনা কম। তাদের মতে, ঘটনাটি সামরিক দিক থেকে বড় পরিবর্তন না আনলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের প্রচেষ্টার জন্য এটি একটি বিব্রতকর ধাক্কা। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
'ইরানিদের অধিকার তুলে ধরাই নিউইয়র্ক সফরের মূল লক্ষ্য'
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র -ইসরায়েলের ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’: আরাগচি
কী বার্তা দেবেন পেজেশকিয়ান?