কঙ্গোয় ১০০ যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবি, নিহত ৪১

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) টাঙ্গানিকা হ্রদে এক মর্মান্তিক নৌকা ডুবির ঘটনায় অন্তত ৪১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

কঙ্গোর টাঙ্গানিকা প্রদেশের পরিবহন মন্ত্রী নরিস মুলোঙ্গোইয়ি বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, নিখোঁজ যাত্রীদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, কাঠের তৈরি নৌকাটি প্রায় ১০০ জন যাত্রী ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে কঙ্গোর কালেমি শহরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে মাফেরা গ্রামের কাছে হ্রদে নৌকাটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া অ্যানি ময়োনি নামের এক যাত্রী কঙ্গোর জাতিসংঘ সমর্থিত 'রেডিও ওকাপি'-কে জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে যাত্রীদের ঘুম ভাঙলে তারা দেখতে পান নৌকাটি একদিকে কাৎ হয়ে প়ড়েছে এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ডুবে যায়।

নৌকাটি কী কারণে ডুবেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কঙ্গোতে প্রায়ই এরকম বড় ধরনের নৌদুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করা এবং লাইফ জ্যাকেটের অভাবই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশটির অবকাঠামোগত বেহাল দশা ও দারিদ্র্যের কারণে সিংহভাগ মানুষের কাছে নৌপথই যাতায়াতের প্রধান ও সাশ্রয়ী মাধ্যম।

উল্লেখ্য, কিগোমা-কালেমি নৌপথে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় কঙ্গোলিজ নৌদুর্ঘটনা। এর আগে গত ২৮ আগস্ট জ্বালানি তেল বোঝাই করার সময় 'এমভি প্যাসিফিক' নামের একটি কঙ্গোলিজ জাহাজে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৬ জন ক্রু নিহত হন এবং ১ জন নিখোঁজ হন। এছাড়া গত জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয় পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে কঙ্গোর মধ্যাঞ্চলে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সূত্র: আল-জাজিরা