গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনার অন্যতম জটিল বিষয় হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ। বোর্ড অব পিস জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। আগস্টে বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পরই ইসরায়েলি বাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে প্রত্যাহার করবে। ফলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের গতি অনেকাংশে এই নিরাপত্তা শর্তের ওপর নির্ভর করছে।
অন্যদিকে, গাজার প্রশাসনের জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির প্রধান আলি শাথ বলেছেন, গাজার বাসিন্দাদের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তারা সমর্থন করেন না। তাদের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের গাজার মধ্যেই রেখে মৌলিক সেবা পুনরুদ্ধার করা এবং পুনর্গঠনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা।
ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। অধ্যাপক বারাকাতের মতে, নির্বাচনের ফলাফল বদলালে গাজা নিয়ে ইসরায়েলের নীতির ‘চেহারা’ পরিবর্তিত হতে পারে। তবে তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তন হলেও গাজা থেকে ফিলিস্তিনি উপস্থিতি কমানোর বিষয়ে ইসরায়েলি রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে যে মতৈক্য রয়েছে বলে তিনি মনে করেন, সেটি সহজে বদলাবে না।
তবে নির্বাচনের ফলাফল বা ভবিষ্যৎ সরকারের নীতি সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজার পুনর্গঠন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন- এই চারটি বিষয়ই পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে আছে।
পরিকল্পনা আছে, বাস্তবায়নই বড় প্রশ্ন
‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিকল্পনায় গাজার জন্য পুনর্গঠনের একটি বিস্তৃত কাঠামো তুলে ধরা হলেও অর্থায়ন, নিরাপত্তা, ইসরায়েলি প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।
জাতিসংঘও জানিয়েছে, গাজার পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়ন, সমন্বয় এবং জবাবদিহির একটি সমন্বিত কাঠামো প্রয়োজন। জাতিসংঘের মতে, পুনর্গঠন কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়; বরং গাজার মানুষের জীবন ও প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের জন্য এটি জরুরি পদক্ষেপ।ফলে ‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিকল্পনা গাজার পুনর্গঠনের একটি সম্ভাব্য কাঠামো সামনে আনলেও সেটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির শর্ত বাস্তবায়ন, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমঝোতার ওপর।