দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইটে ককপিটে হামলার চেষ্টার ঘটনার পর ইসরায়েলের বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরে যাওয়ার এবং সেখান থেকে ছেড়ে আসা সমস্ত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিমানটি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, "এই সাময়িক স্থগিতাদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার এবং এই ঘটনার পেছনের সমস্ত সত্য উদঘাটন করার সুযোগ পাবে। আমরা সরকারি কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বিমানবন্দরের অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছি এবং পরিস্থিতি সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে।"
এর আগে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা ‘শিন বেত’-এর পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল যে, তদন্তের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলের মধ্যকার ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা উচিত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেল আবিবগামী ফ্লাইটের পাইলটদের ওপর বাড়তি নিরাপত্তা যাচাই ও তল্লাশি চালাতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এর আগে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে কো-পাইলট প্রধান পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানায় তেল আবিব।
দুবাইয়ের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই বিমান সংস্থাটি এ বিষয়ে "অপ্রয়োজনীয় অনুমান বা গুঞ্জন" থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে যে এখনো অনেক বিষয় পরিষ্কার নয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের ওই কো-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু প্রকাশ করেন যে, আমিরাতের পাশাপাশি ইসরায়েলও এই তদন্তে যুক্ত হবে এবং ওমানের নাগরিক ওই পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি পাবে তারা।
সরকারি কর্মকর্তা ও এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার পর পাইলটদের কীভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা নিরাপত্তা যাচাই করা হয় এবং তাদের ওপর কী ধরনের নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রয়োগ করা হয়, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বৈশ্বিকভাবে ইহুদিদের ওপর নানা হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল সবসময় তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আসলেও, এই হামলার পেছনের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে বলেন, "ইসরায়েলে যাতায়াতকারী প্রতিটি বিমানের পাইলটের পরিচয় এবং বিস্তারিত জেনেই আমরা নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় নিয়ে আসব।"
তিনি জানান, ইসরায়েলি ও অন্যান্য বিমান সংস্থার মাধ্যমে ইসরায়েলে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (GCAA) এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।
নেতানিয়াহু জানান, হামলায় আহত প্রধান পাইলট হলেন ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তিনি বলেন, গুরুতর আহত ও ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়া সত্ত্বেও মাচ্ছার সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন, যার ফলে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন।
বিশেষজ্ঞরা রয়টার্সকে জানান, বিশেষ করে ২৫ বছর আগে নিউইয়র্কের নাইন-ইলেভেনের হামলার পর থেকে পাইলটরা কঠোর নিরাপত্তা স্ক্রিনিংয়ের মুখোমুখি হয়ে আসছেন। কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটির এভিয়েশন সিকিউরিটির ভিজিটিং প্রফেসর ফিলিপ বাউম বলেন, "প্রতিটি পাইলটকে কেবল বিস্তৃত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকই নয়, বরং নিয়মিত মেডিকেল ও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নের মধ্য দিয়েও যেতে হয়।"
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত দুজন পাইলট জানিয়েছেন, যাত্রীদের মতো পাইলটদেরও একই ধরনের নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যার কারণে তারা ককপিটে ছুরি বা অস্ত্রের মতো জিনিস বহন করতে পারেন না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের সার্টিফিকেশন ও নিরাপত্তা তদারকির পুরো দায়িত্ব জিসিসিএ (GCAA)-এর ওপর ন্যস্ত।
ইরানের তেল বাণিজ্যে ক্রিপ্টোর ব্যবহার বাড়ার আশঙ্কা
ইরানের ভয়েই কী আরব দেশে নেতানিয়াহুর দৌড়ঝাঁপ?