যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত: মুখপাত্র

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি-নিয়া।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ইরানের ৬৫তম এয়ারবর্ন স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেড পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের বারবার দেওয়া হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আঞ্চলিক ও সামরিক পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

আকরামি-নিয়া ৬৫তম ব্রিগেডের বিশেষ অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, এই ইউনিটের প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল সদস্যরা ইরানের সেনাবাহিনী ও দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হয়েছেন। তাদের দায়িত্ব শুধু কৌশলগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন অভিযানের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হিসাব-নিকাশের প্রসঙ্গ তুলে ইরানের সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র দাবি করেন, ইরান ধারাবাহিকভাবে তার সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তার দাবি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের দৃঢ়তায় প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। শত্রুপক্ষ ধারণা করেছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধ্বংস করে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। কিন্তু সেই হিসাব বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

আকরামি-নিয়া আরও বলেন, প্রতিপক্ষের লক্ষ্য শুধু ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাদের বৃহত্তর লক্ষ্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারব্যবস্থার পতন ঘটানো এবং ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করা। তার দাবি, এসব লক্ষ্যও অর্জন করতে পারেনি প্রতিপক্ষ।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিশ্বাস, মনোবল ও প্রতিরোধের মানসিকতাকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে রাতে দেশের বিভিন্ন শহরের চত্বরে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি জাতীয় ঐক্য ও সংহতির পাশাপাশি সম্মুখসারির সেনাদের মনোবলও বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন আকরামি-নিয়া।

তবে মুখপাত্রের এসব বক্তব্য ইরানের সরকারি অবস্থানের অংশ; যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।