মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাধারণ মানুষের একটি আশ্রয়শিবিরে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। গত দুই দিনে সেখানে পরপর দুটি হামলায় মোট আটজন নিহত হয়েছেন। ঠিক এর এক সপ্তাহ আগেই একই রাজ্যে আরেকটি হামলায় ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও যুব সংগঠন জানায়, রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাখাইনের পোন্নাগিউন এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে প্রথম বিমান হামলা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা যান, আর আহত হন ১১ জন। এর রেশ কাটতে না কাটতে সোমবার সকালে পাশের আরেকটি শিবিরে আবারও বোমা ফেলা হয়। এতে আরও দুজন নিহত ও দুজন আহত হন।
স্থানীয় এক তরুণ নেতা ক্যাও উইন তুন জানান, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এই শিবির দুটিতে যারা ছিলেন, তারা সবাই সাধারণ মানুষ। যুদ্ধ বা সহিংসতার কারণে তারা আগেই নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়েছিলেন। এই হামলার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তারা দাবি করেছিল, সামরিক বাহিনী বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি এড়াতে সবসময় সতর্ক থাকে। যদিও নিরপেক্ষ কোনো সূত্র দিয়ে এই হামলার খবরটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যটি এখন মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের প্রধান রণক্ষেত্র। উপকূলীয় এই অঞ্চলের বেশির ভাগ অংশই এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দখলে, আর সেই হারানো জমি ফিরে পেতে লড়াই চালাচ্ছে সামরিক বাহিনী।
২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে এই সংঘাতে দেশটিতে প্রায় এক লাখ মানুষ মারা গেছেন এবং সাড়ে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহে রাখাইনের ক্যউকটাও বাজারের কাছে বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত ও অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছিলেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।
সূত্র: ইউএস নিউজ।