বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিষয় নিয়ে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার রাতে এক পোস্টে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এ বৈঠক এমন সময়ে হলো, যখন গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়ার প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনার মধ্যে তাঁর মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
দীনেশ ত্রিবেদী ওই অনুষ্ঠানে বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর বিমান ভারতে পৌঁছানোর পর ভারত প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাস্তবতা মেনে নিয়েছিল বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান এবং এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের রাজ্যসভায় দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কয়েকজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে মূলত শেখ হাসিনার ভারতে পৌঁছানোর ঘটনাকে বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা দেখা গেছে।
এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠক দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করা।