সশস্ত্র হামলার দায়ে ‘রাজতন্ত্রপন্থী’ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে সশস্ত্র হামলা চালানোর দায়ে আলী-সিনা মোস্তাফাভি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরমান শহরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।

আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোস্তাফাভি কেরমান শহরে একাধিক সশস্ত্র হামলায় জড়িত ছিলেন। এসব হামলায় এক শিশুকন্যাসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটি।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মোস্তাফাভির বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ কেরমানের আজাদি স্কয়ারে গুলিবর্ষণ এবং ২১ এপ্রিল বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে থাকা সেনাসদস্য ও চলাচলরত যানবাহন লক্ষ্য করে হামলা চালানো।

আইআরআইবির দাবি, এসব ঘটনার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করেছিলেন। তবে হামলাগুলোর বিস্তারিত তদন্ত, আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ এবং আহত ব্যক্তিদের অবস্থা সম্পর্কে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, মোস্তাফাভির সঙ্গে রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর যোগাযোগ ছিল। যুদ্ধ চলাকালে সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রভাবের ভিডিও ধারণ করে বিদেশি সংবাদমাধ্যম বা নেটওয়ার্কে পাঠানোর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়।

এ ছাড়া বার্তালাপে কেরমান বিমানবন্দরে হামলা চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলেও দাবি করেছে আইআরআইবি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ বা অভিযুক্তের বক্তব্য সরবরাহ করা হয়নি।

যুদ্ধের সময় সশস্ত্র হামলা, সামরিক স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ এবং বিদেশি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, আদালতের রায় এবং অভিযোগের স্বাধীন যাচাই—এগুলো পৃথক বিষয়।

মোস্তাফাভির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি, বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়ন পাওয়া না যাওয়ায় অভিযোগগুলোর সব দিক আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: আইআরআইবি