ইরানে প্রস্তুত ‌'ফাদার অব মিসাইলস’

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নতুন করে আগ্রাসন চালালে আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনা ও বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি। ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রকাশিত মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর সারিতে ‘স্যাক্রিফাইস ফর ইরান’ কর্মসূচিতে হাজারো মানুষের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ হুঁশিয়ারি দেন নাকদি।

প্রেস টিভির ইংরেজি ওয়েবসাইটের বরাতে নাকদি বলেন, ‘আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের জনককে প্রস্তুত রেখেছি। শত্রুপক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তাদের হামলা ব্যর্থ হবে এবং বেরিয়ে যাওয়ার কোনো পথ থাকবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব হিসেবে নাকদির এ বক্তব্য এসেছে। ট্রাম্প এর আগে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিতে গিয়ে ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) বোমার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।

নাকদি বলেন, নতুন করে কোনো ভুল হিসাব বা আগ্রাসন হলে অঞ্চলজুড়ে আগ্রাসীদের মালিকানাধীন অবকাঠামো ও জ্বালানি বিনিয়োগ ইরানের হামলার আওতায় আসবে। এসব স্থাপনার নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে বলেও দাবি করেন তিনি। আইআরজিসির এই জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও প্রতিরোধক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে ইরানের শক্তি ও সাফল্যের মূল ভিত্তি সামরিক সরঞ্জাম নয়, বরং জনগণের অংশগ্রহণ, প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের মানসিকতা এমন মন্তব্য করেন নাকদি। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের জনগণের প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের কারণে স্থলপথে অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং সমুদ্রে প্রতিপক্ষের জাহাজগুলোকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এসব দাবির স্বাধীন যাচাই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

ট্রাম্পের হুমকিকে ‘পরাজয় স্বীকার’ বললেন নাকদি

বক্তব্যের অন্য অংশে নাকদি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি এবং ধৈর্য হারানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তিনি ইরানি জনগণের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরাজয় স্বীকার’ হিসেবে দেখছেন। তার যুক্তি- কোনো পক্ষ যদি নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করে, তাহলে তাদের ধৈর্য ফুরিয়ে যাওয়ার কথা বলে নতুন করে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়।

উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের মার্কিন হুমকির জবাবে নাকদি দাবি করেন, ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের ওপর ১৪ টন ওজনের বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে কয়েকটি বোমা বিস্ফোরিত না হওয়ায় ইরানি বাহিনী সেগুলো উদ্ধার করে জব্দ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। নাকদির ভাষ্য, অস্ত্রগুলোর নমুনা এখন ইরানের কাছে রয়েছে, এমনকি যেসব দেশ এগুলো তৈরি করেছে, তাদের কাছেও এ ধরনের নমুনা থাকার প্রসঙ্গ তিনি টানেন। তবে বোমা উদ্ধারের দাবি, এর সংখ্যা এবং যুদ্ধের সময়কার ঘটনাগুলো সম্পর্কে প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনো যাচাই বা বিস্তারিত প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক হুমকি-পাল্টা হুমকি অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো ও বিনিয়োগে হামলা চালাতে পারে, নাকদির বক্তব্যে সেই আশঙ্কাই সামনে এসেছে।