সামরিক বাহিনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) পরীক্ষা, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে ব্যবহারের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশ তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়াতে চায়।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণে ২০২৭ সালের বসন্তে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন। তবে কী ধরনের এআই প্রযুক্তি তৈরি করা হবে কিংবা এ প্রকল্পে কত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সোমবার (২নভেম্বর) জার্মানির রাজধানী বার্লিনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াসের সঙ্গে বৈঠকের আগে জার্মান সংবাদমাধ্যম ফ্রাঙ্কফুর্টার আলগেমাইনে জাইটুংয়ে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ পরিকল্পনার কথা জানান যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান যৌথ প্রকল্প ‘সাইবার লাইটহাউস’-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে এর সঙ্গে সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যুক্ত করা হবে।
স্ট্রিটিং বলেন, দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে এআই প্রযুক্তির যৌথ পরীক্ষা, উন্নয়ন এবং পর্যায়ক্রমে ব্যবহার চালুর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ তৈরি হবে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পর থেকে জার্মান কোম্পানিগুলো যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা শিল্পে ৮০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউরোতে যার পরিমাণ প্রায় ৯৫ কোটি ৬০ লাখ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মিউনিখভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি হেলসিং। প্রতিষ্ঠানটি গত বছর যুক্তরাজ্যের প্লাইমাউথে একটি কারখানা চালু করেছে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত পানির নিচে চলাচলকারী বিশেষ যান তৈরি করা হচ্ছে। এসব যান শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সক্ষম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ, ড্রোন পরিচালনা এবং সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন দেশ গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে এ প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও আক্রমণ করতে সক্ষম স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) সতর্ক করেছে, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থা নিয়ে প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সংস্থাটি এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির এই উদ্যোগ ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে যৌথ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ। তবে সামরিক এআইয়ের ব্যবহার কতটা স্বয়ংক্রিয় হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা ভবিষ্যতের সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।
সূত্র: ইউরো নিউজ