ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেট’ (Shin Bet)-এর প্রধান ডেভিড জিনির ভাই বেজালেল জিনিকে গাজায় অবৈধ পণ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। একটি সুসংগঠিত পাচারকারী চক্রের অংশ হিসেবে তাকেসহ মোট ১৫ জনকে এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গাজা উপত্যকায় অবৈধ সিগারেট, মোবাইল ফোন, গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য পাচার করছিল। অভিযোগ রয়েছে, বেজালেল জিনি একাই গাজায় ১৪ ক্রেট সিগারেট পাচার করে প্রায় ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার শেকেল (প্রায় ১ লক্ষ ১৭ হাজার ডলার) হাতিয়ে নিয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই চক্রটিতে ইসরায়েলি রিজার্ভ সৈন্য এবং পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিরাও যুক্ত ছিল। পাচারকৃত পণ্যগুলো প্রথমে পশ্চিম তীরের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ইসরায়েলি গুদামে আসত। এরপর মানবিক সহায়তা বা সামরিক অভিযানের নাম করে ইসরায়েলি সামরিক কনভয়ের (Military Convoy) মাধ্যমে সেগুলো গাজায় পৌঁছে দেওয়া হতো। মূলত মানবিক সহায়তার জন্য ব্যবহৃত রুটগুলোকে এই চক্রটি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করত।
শিন বেট এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা জানায়, এই পাচার চক্রের মাধ্যমে আসা পণ্যের লভ্যাংশ হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করছে। এর ফলে হামাস তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করার সুযোগ পাচ্ছে এবং অস্ত্র পাচারের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
বেজালেল জিনির আইনজীবী আসাফ ক্লেইন তার মক্কেলকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তিনি একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। বেজালেলের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ গ্রহণ’ এবং ‘যুদ্ধকালীন শত্রুকে সহায়তা করার’ মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এই পাচার কাণ্ডের সাথে শিন বেট প্রধান ডেভিড জিনির কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে ডেভিড জিনির নিয়োগ নিয়ে আগে থেকেই ইসরায়েলে বিতর্ক ছিল, কারণ গোয়েন্দা সংস্থায় তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না এবং তাকে ‘চরমপন্থি বিশ্বদৃষ্টিসম্পন্ন’ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্বার্থের সংঘাত এড়াতে বেজালেল জিনির মামলার তদন্ত শিন বেট-এর পরিবর্তে সরাসরি ইসরায়েলি পুলিশ পরিচালনা করছে।