ইরানের শাসক

যাদের কথা ভেবেছিলাম তারা সবাই শেষ: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের ‘এন্ডগেম’ বা শেষ লক্ষ্য কী, তা নিয়ে এতদিন বিশ্বকে ধোঁয়াশায় রাখলেও এবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্যাপকভাবে ‘ট্রাম্পের যুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিত এই সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েক ডজন শীর্ষ কমান্ডার ও ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর পর, এখন দেশটিতে কে শাসন করবে—তাও যেন ঠিক করে দিতে চাইছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা ইরানের শাসক হিসেবে যাদের কথা মাথায় রেখেছিলাম, তাদের বেশিরভাগই এখন মৃত।’ ট্রাম্পের এমন খোলামেলা বক্তব্যে পরিষ্কার যে, তিনি ইরানে এমন এক নেতৃত্ব দেখতে চান যারা ওয়াশিংটনের অনুগত বা নমনীয় হবে।

তবে কয়েক দশক ধরে আমেরিকাকে ‘মহা শয়তান’ (Great Satan) হিসেবে চিহ্নিত করা একটি কট্টর ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য এমন চিন্তা অকল্পনীয়। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব এমন কাউকে বেছে নেবে কি না, যিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভিন্নভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক—তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইরানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারবাদী, বাস্তববাদী এবং কট্টরপন্থীদের (প্রিন্সিপলিস্ট) মধ্যে বিভাজন রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তারা সবাই একটি লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধ—আর তা হলো তাদের এই ‘ইসলামি ব্যবস্থার’ টিকে থাকা।

খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরানের ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ আলেম নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এই সংকটময় সময়ে একক কোনো ব্যক্তির পরিবর্তে একটি ‘লিডারশিপ কাউন্সিল’ বা নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করতে পারে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো একক নেতাকে সুরক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরানের পরবর্তী নেতার নাম ঘোষণা করা হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। কারণ ইসরায়েল ইতোমধ্যেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, খামেনির পর যিনিই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তিনিও হবেন তাদের ‘অনিবার্য লক্ষ্যবস্তু’ (Unequivocal Target)। অর্থাৎ নতুন নেতাকেও হত্যার হুমকি দিয়ে রেখেছে তেল আবিব।

সব মিলিয়ে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এখন এক বিশাল গোলকধাঁধায়। একদিকে ট্রাম্পের পছন্দ অনুযায়ী শাসনের পরিবর্তন, অন্যদিকে ইসরায়েলি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে পরবর্তী পথ খুঁজছে তেহরান।