ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া "অবৈধ সামরিক হামলার" পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগের খবর সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।
আরাগচি জানান, উইটকফের সাথে তার শেষ যোগাযোগ হয়েছিল হামলা শুরুর আগে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস' (Axios) এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই নেতার মধ্যে খুদে বার্তা (SMS) বিনিময় হয়েছে, যা যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার অংশ ছিল। এই দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে আরাগচি বলেন, "এর বিপরীত যেকোনো দাবি কেবল তেলের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য করা হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে। ইরান আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ 'হরমুজ প্রণালি'। ইরান এই জলপথটি অবরোধ করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। আরাগচির এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ এই মুহূর্তে অনেকটাই রুদ্ধ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি