পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকা পড়ে আছেন অন্তত ২০ হাজার নাবিক। সমুদ্রপথে এই সংঘাতের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় নাবিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক, বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক ট্রমা ছড়িয়ে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলো।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা 'সেইলরস সোসাইটি' এবং 'দ্য সিফেয়ারার্স চ্যারিটি' জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর থেকে জাহাজগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। ক্যাপ্টেন থেকে শুরু করে রাঁধুনি, প্রকৌশলী এবং সাধারণ ক্রু সবাই এখন যুদ্ধের আগুনের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করছেন। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) তথ্যমতে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন।
সেইলরস সোসাইটির ক্রাইসিস রেসপন্স নেটওয়ার্কের প্রধান গ্যাভিন লিম সংবাদসংস্থা এএফপিকে জানান, হামলার শিকার হওয়া একটি জাহাজের ক্রুদের সাথে কথা বলে তিনি তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, তারা প্রতিনিয়ত মাথার ওপর দিয়ে ড্রোন এবং মিসাইল উড়ে যেতে দেখছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের চোখের সামনেই জাহাজগুলো আক্রান্ত হচ্ছে। তারা প্রতি মুহূর্তে ভাবছে যে এই বুঝি তাদের মৃত্যু হলো। এই ক্রমাগত মৃত্যুভয় তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই অবরুদ্ধ অবস্থা নাবিকদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সমুদ্রের মাঝখানে নিঃসঙ্গতা, পরিবারের সাথে যোগাযোগের অভাব এবং যেকোনো সময় হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় তারা 'হাইপারভিজিল্যান্স' বা অতি-সতর্কতা, বিষণ্ণতা এবং মানসিক অবসাদে ভুগছেন। ২০ হাজার নাবিকের এই মানবিক সংকট নিরসনে এবং তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্বনেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছে মেরিটাইম সংস্থাগুলো।
দক্ষিণ লেবাননে আরও ৯ শহর ছাড়ার নির্দেশ