মার্কিনিদের চেয়ে ইরানিরা বেশি ধৈর্যশীল ও অভিজ্ঞ: বিশ্লেষক

আপডেট : ০৯ মে ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে সাড়া দিতে বিলম্ব হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন দোহা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল কূটনৈতিক আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দল মার্কিন পক্ষের তুলনায় অনেক বেশি অভিজ্ঞ এবং ধৈর্যশীল।

অধ্যাপক এলমাসরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ওয়াশিংটন শুক্রবারের মধ্যে তেহরানের উত্তরের অপেক্ষায় থাকলেও ইরান সময় নিচ্ছে। এর পেছনে কয়েকটি কৌশলগত কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, ইরান বিশ্বকে এটি বোঝাতে চায় যে, পুরো পরিস্থিতি এবং আলোচনার লাগাম তাদের হাতেই রয়েছে এবং এই দরকষাকষিতে তারাই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রস্তাবের কিছু পয়েন্টকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে নিজেদের মধ্যে গভীর আলাপ-আলোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ করছে।

মার্কিন প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে এলমাসরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় যথেষ্ট ধৈর্য দেখাতে পারছে না। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ওয়াশিংটন খুব দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় এবং তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। বিপরীতে, ইরানি নিগোসিয়েটররা মনে করেন এটি একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া, যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ধীরস্থির নীতি মূলত মার্কিন চাপের মুখে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার একটি কৌশল। তেহরান সম্ভবত এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় যেখানে তাদের স্বার্থের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটবে, আর এই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই তারা আলোচনার টেবিলে ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে।

SN
আরও পড়ুন