এবার ইরান যুদ্ধ নিয়ে সৌদি আরবের সতর্কবার্তা

চলমান সংঘাত নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান বলেছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে এই সংঘাত দ্রুত সমাধান করা জরুরি।

মোহাম্মদ আল-জাদান বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ধরনের বিঘ্ন দেখা গেছে, তা করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে স্বস্তির খবর এসেছে বাংলাদেশের জন্য। ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেয়া হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। খবর এনডিটিভির।

মূলত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। তবে পুরো প্রণালি বন্ধ না করে বাছাই করা কিছু দেশকে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেক জাহাজ মালিক বা দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যাতে তারা নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি বা বিশেষ কারণে অনুমতি দিই, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করছে।

তিনি আরও বলেন, সংবাদে দেখেছেন চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। কয়েক দিন আগে ভারতের দুটি জাহাজ পার হয়েছে। আরও কিছু দেশ, এমনকি বাংলাদেশও যারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতেও, যুদ্ধের পরেও এটি অব্যাহত থাকবে।

তবে আরাগচি জানিয়েছেন, যেসব দেশকে ইরান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে বা চলমান সংঘাতে জড়িত বলে মনে করে তাদের জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে আছি। পুরো অঞ্চলই যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের কোনও কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকবে।