ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ২৯তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ, কূটনীতি ও জ্বালানি সংকট তিন দিকেই উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। হামলা-পাল্টা হামলার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও মানবিক শঙ্কা।
ইরানে যা ঘটছে
ইসরায়েল শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে তেহরানে 'শাসন-সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে' হামলার দাবি করেছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এসব হামলার জন্য 'চড়া মূল্য' দিতে হবে।
তেহরান জানিয়েছে, পরমাণু ও শিল্প স্থাপনায় আঘাত লাগলেও কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি। তবে দেশজুড়ে এক ধরনের চাপা উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেক ইরানি মনে করছেন, তারা এমন আলোচনার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে যা তাদের পক্ষে নয়।
এদিকে কূটনৈতিক পথও খোলা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ চলতি সপ্তাহেই আলোচনার আশা করছেন, যদিও ইরানের প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধ কূটনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন মিত্রদের সুরক্ষায় বিপুল ব্যয় করলেও এই যুদ্ধে ন্যাটো কার্যকর সহায়তা দেয়নি।
অন্যদিকে তুরস্ক জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও মিশরকে নিয়ে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থাও পরিস্থিতিতে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মারৎস মনে করেন, এই যুদ্ধ থেকে ইরানে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।
উপসাগরীয় অঞ্চলে কী ঘটছে
সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে একই সময় দেশটিতে অবস্থানরত একটি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে। কুয়েতে বাসিন্দারা রাতভর সাইরেনের শব্দে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন যা পরিস্থিতির গভীরতাই তুলে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রে যা ঘটছে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তবে বাস্তবতা বলছে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০-র বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
ওয়াশিংটনের কৌশল স্পষ্ট, দ্রুত ফলাফল এনে ইরানকে দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দেওয়া।
ইসরায়েলে যা ঘটছে
ইসরায়েল একাধিক ফ্রন্টে হামলার মুখে রয়েছে। তেল আবিবে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র একটি ব্যস্ত সড়কে আঘাত হানে। এতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে, এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে।
লেবানন, ইয়েমেন ও পশ্চিম তীরে
দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। হিজবুল্লাহ বলছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ডজনখানেকের বেশি হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সতর্ক করেছে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তারাও যুদ্ধে যোগ দেবে।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে; সাম্প্রতিক অভিযানে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
তেল, খাদ্য ও গ্যাস সংকট
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘ সম্ভাব্য মানবিক সংকট ঠেকাতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
মিশরে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দোকানপাটে রাতের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইথিওপিয়ায় জ্বালানি সংকটে দীর্ঘ লাইন, আর কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরে হাজার হাজার টন চা আটকে আছে। সূত্র: আলজাজিরা