আল-আকসায় জুমার নামাজ বন্ধ টানা এক মাস

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা; চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমাকে কেন্দ্র করে পুরনো শহরের প্রবেশপথ ও আল-আকসা প্রাঙ্গণের গেটগুলোতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আশপাশের সড়কে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করলেও অনেককে সেখান থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা বিবেচনায় বড় ধরনের জনসমাগম এড়াতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে শুধু ওয়াকফ দপ্তরের সীমিতসংখ্যক কর্মী ছাড়া অন্য কেউ মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না।

একই সঙ্গে খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান চার্চ অফ দ্য হলি সেপালকারও বন্ধ রাখা হয়েছে, ফলে পুরনো শহরের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরনো শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে মুসল্লিদের আটকে দেওয়া হয় এবং ছোট ছোট জমায়েতও ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে আশপাশের ছোট মসজিদে নামাজ আদায় করেন, কেউ কেউ শহরের বাইরে বিকল্প স্থানে জড়ো হন।

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এত দীর্ঘ সময় ধরে আল-আকসায় এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের নজির নেই। জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ায় রমজানের তারাবি ও ঈদের নামাজও মসজিদ প্রাঙ্গণে আদায় করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে হামাস এক বিবৃতিতে এ পদক্ষেপকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, নিরাপত্তার অজুহাতে আল-আকসার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আসন্ন ধর্মীয় উৎসব ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

AS/AHA
আরও পড়ুন