ড্রোন বিপ্লবে ইউক্রেনের সাফল্য, পুনরুদ্ধার হচ্ছে হারানো ভূমি

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন এবং উদ্ভাবনী রণকৌশল ব্যবহার করে গত আড়াই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার গতি অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৪৭০ বর্গকিলোমিটার অধিকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনীয় সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি জানিয়েছেন, বর্তমানে রাশিয়ার ৯০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে রিমোট-কন্ট্রোলড এফপিভি (FPV) ড্রোনের মাধ্যমে।

ইউক্রেন গত এক সপ্তাহে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর ‘বিধ্বংসী’ হামলা চালিয়েছে। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত রাশিয়ার প্রধান দুটি তেল রপ্তানি টার্মিনাল উস্ত-লুগা (Ust-Luga) এবং প্রিমোরস্ক (Primorsk)—এ ধারাবাহিক ড্রোন হামলার ফলে রাশিয়ার তেল রপ্তানি ক্ষমতা প্রায় ৪০ থেকে ৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, রাশিয়ার দৈনিক তেল রপ্তানি ৪ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে ২.৩ মিলিয়নে নেমে এসেছে। এর ফলে পুতিন সরকার যুদ্ধের খরচ মেটাতে বড় ধরনের অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের অভাবনীয় সাফল্যের পর ইউক্রেন এখন তাদের এই প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি করছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে ইউক্রেনের যৌথ ড্রোন উৎপাদন এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের চুক্তি হয়েছে। আধুনিক ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়তে এসব দেশ গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে ইউক্রেন যেমন মিত্র বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়াও ইরানের কাছ থেকে নতুন কৌশল শিখছে। সম্প্রতি রাশিয়া শুধুমাত্র রাতে নয়, বরং দিনের বেলাতেও ইউক্রেনজুড়ে ড্রোন হামলা শুরু করেছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ব্যবহৃত একটি মনস্তাত্ত্বিক রণকৌশল। এছাড়া, লেবাননের হিজবুল্লাহ কর্তৃক ইসরায়েলি ট্যাংকে এফপিভি ড্রোন হামলার ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপের প্রশিক্ষকরা এই ইউক্রেনীয় রণকৌশল এখন ইরানি প্রক্সিদের শেখাচ্ছে।

জেলেনস্কি শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন যে, গত ১০ মাসের মধ্যে বর্তমানে ফ্রন্টলাইনের পরিস্থিতি ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে অনুকূল। মার্চ মাসে রাশিয়ার পরিকল্পিত বড় ধরনের আক্রমণ ইউক্রেনীয় বাহিনী নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া এখন বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ড্রোন হামলা বাড়িয়ে দিয়ে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। সূত্র: আলজাজিরা