এ পর্যন্ত ১৬০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে: ইরান

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে জোরালো দাবি করেছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা। সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস–এর আকাশ প্রতিরক্ষা অবস্থান পরিদর্শনের সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা এলহামি জানান, সাম্প্রতিক সংঘাতে শত্রুপক্ষের একাধিক উন্নত যুদ্ধবিমান, ১৬০টির বেশি ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।

তার দাবি, ভূপাতিত ড্রোনগুলোর মধ্যে এমকিউ-৯, হার্মিস ও লুকাস মডেলের মতো আধুনিক নজরদারি ড্রোনও রয়েছে। এসব সাফল্য শত্রুপক্ষের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এলহামি বলেন, ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো এখন কার্যত ‘ওত পেতে’ রয়েছে, এবং যেকোনো ধরনের আকাশ হামলার দ্রুত জবাব দিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আক্রমণকারীদের ‘কাল্পনিক প্রোপাগান্ডা’ ভেঙে দিয়েছে এবং বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা ইরানের কৌশলগত দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রমাণ। এতে শত্রুপক্ষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানি এই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ সমন্বিত এবং দেশের আকাশসীমা রক্ষায় তারা যেকোনো মূল্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর দেশজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি