মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে, ঠিক সেই সময়ে এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত মুনাফা লোটার অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই পুত্র—ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং এরিক ট্রাম্প। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে যুদ্ধের আবহে নিজেদের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিস্তারের এই ঘটনায় ওয়াশিংটনসহ বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার নেয়। জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ইন্টারসেপটর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিকে ঘিরেই সামনে আসে মার্কিন ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাওয়ারাস। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তিতে যুক্ত হয়েছেন ট্রাম্পের দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ড্রোন বিক্রির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যদিও পাওয়ারাস দাবি করেছে, এটি কোনো স্বার্থের সংঘাত নয় বরং চীন ও রাশিয়ার প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কৌশল। তাদের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচের ভাষায় যুদ্ধের বাস্তবতায় দ্রুত প্রযুক্তি উন্নয়নই এখন প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক পরিধি আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে। হোটেল ও গলফ ব্যবসার বাইরে এখন তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি, রকেট যন্ত্রাংশ এবং বিরল খনিজ খাতেও যুক্ত হচ্ছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট থেকে বরাদ্দকৃত প্রায় ১১০ কোটি ডলারের একটি প্রকল্প যেখানে সশস্ত্র ড্রোন উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগে পরোক্ষভাবে ট্রাম্প পরিবারের সম্পৃক্ততা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও পারিবারিক ব্যবসার এই মিশ্রণ গণতান্ত্রিক নীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তবে ট্রাম্পপুত্রদের বক্তব্য ভিন্ন।
তাদের দাবি, অতীতে সুযোগ না নেওয়ার জন্য তারা কোনো স্বীকৃতি পায়নি, তাই এবার নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখার প্রয়োজন দেখছেন না।
পুরো ঘটনাটি যেন এমন এক অদৃশ্য সংঘর্ষ যেখানে যুদ্ধ শুধু সীমান্তে নয়, অর্থনীতি, নীতি ও নৈতিকতার ভেতরেও সমানভাবে চলমান।
যুদ্ধ বন্ধে স্থায়ী সমাধান চান আব্বাস আরাঘচি
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করলো ইরান
