কুদস ফোর্সের ইউনিট প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ওপর বড় ধরণের আঘাত হানার দাবি করেছে ইসরায়েল। এবার আইআরজিসি’র অভিজাত শাখা ‘কুদস ফোর্স’-এর একটি অত্যন্ত গোপনীয় বা আন্ডারকাভার ইউনিটের প্রধানকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শোশানি এক বিবৃতিতে জানান, একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে কুদস ফোর্সের ওই ইউনিটের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি মূলত কুদস ফোর্সের বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচালিত অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর কার্যক্রমগুলোর সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। তবে নিহত কর্মকর্তার নাম বা বিস্তারিত পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি ইসরায়েল।

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আইআরজিসি-র গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল সৈয়দ মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার ভোরে তেহরানে চালানো এক ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ খাদেমি প্রাণ হারিয়েছেন।

কুদস ফোর্সের আন্ডারকাভার ইউনিটের প্রধান নিহতের দাবির বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে একের পর এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হারানো বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য এক বড় ধরণের বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্যই হলো ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর নেতৃত্বকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া। গত এক মাসে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব কমান্ডার ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা ও ফার্স নিউজ, রয়টার্স