বিউফোর্ট দুর্গ দখলে হিজবুল্লাহ'র সরবরাহে বড় ঘাটতি 

আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিউফোর্ট দুর্গ দখলে নেওয়ার ফলে হিজবুল্লাহর সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

লেবাননের টাইর শহর থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া প্রতিবেদনে সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো বলেন, লিতানি নদীর একটি শাখা স্লোহি নদীর ওপর উঁচু পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত বিউফোর্ট দুর্গ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখান থেকে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তার মতে, লিতানি নদী অতিক্রম করে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য এই দুর্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। দুর্গটি থেকে নাবাতিয়েহ শহর ও আশপাশের গ্রামগুলো, পশ্চিম বেকা উপত্যকা, এমনকি অধিকৃত গোলান মালভূমি ও উত্তর গ্যালিলির বিস্তীর্ণ অঞ্চল পর্যন্ত নজরদারি করা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইসরায়েলকে শুধু সামরিক পর্যবেক্ষণেই নয়, হিজবুল্লাহর চলাচল ও সরবরাহ রুটের ওপরও বাড়তি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিম বেকা উপত্যকা থেকে নাবাতিয়েহ জেলা এবং দক্ষিণ লেবাননের দিকে যাওয়া সম্ভাব্য সরবরাহ পথগুলো এখন আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিউফোর্ট দুর্গ দখলকে ইসরায়েলের জন্য প্রতীকী ও কৌশলগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৮২ সালের জুনে এই দুর্গ দখল করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী দুই দিনের তীব্র যুদ্ধে জড়িয়েছিল এবং সে সময় তাদের একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। সেই ইতিহাসের কারণেও দুর্গটির প্রতি ইসরায়েলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই উচ্চভূমির নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ইসরায়েলি সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে সাইদা ও টাইর থেকে নাবাতিয়েহমুখী প্রধান সড়ক এখন সরাসরি নজরদারির আওতায় চলে আসায় দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়তে পারে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বিউফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ দক্ষিণ লেবাননের সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং এর প্রভাব সামনের দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত